প্রাকৃতিক উপাদান ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে প্রয়োজনীয় টিপস

প্রাকৃতিক উপাদান ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে প্রয়োজনীয় টিপস

প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে মুখ, হাত ও পায়ের যত্ন। যে কোনো আনন্দ আয়োজনে নিজেকে সুন্দর দেখাতে কম বেশি সবাই কিছুনা কিছু করেন। আর এজন্য চাই আগাম প্রস্তুতি। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আকাঙ্ক্ষা’স গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার অ্যারোমা থেরাপিস্ট জুলিয়া আজাদ।

ত্বকের যত্ন

টক দই শুষ্ক ত্বক মসৃণ ও উজ্জল রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ভাজ ও দাগ দূর করে।

টক দই দিয়ে ত্বক উপযোগী ক্লেনজার তৈরিতে দরকার হবে, দুই চামচ টক দই, আধা চা-চামচ লেবুর রস, আধা চা-চামচ মধু। সব মিশিয়ে একটু ফেটিয়ে নিন। পুরো মুখে লাগিয়ে হাল্কা হাতে মালিশ করুন তিন, চার মিনিট। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন কতটা পরিষ্কার লাগছে মুখের ত্বক।

মিশ্র ত্বকেও এই ক্লেনজার খুব ভালো কাজ করবে।

তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ না থাকলে এই ক্লেনজার ব্যবহার করতে পারেন। তবে ব্যবহারের পর উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে তৈলাক্ত ত্বক। নয়তো ভালোভাবে পরিষ্কার হবে না।

টক দই দিয়ে স্ক্রাবার বানিয়েও ব্যবহার করা যায়। এক্ষেত্রে টকদই দুই চামচ, আধা চামচ লেবুর রস, আধা চামচ মধু, ১ চা-চামচ চিনি একসঙ্গে মিশিয়ে পরিমাণ মতো পানি দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগিয়ে তিনি থেকে চার মিনিট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মালিশ করে ধুয়ে ফেলুন।

সব ধরনের ত্বক উপযোগী এই স্ক্রাবার। তবে আগে তৈরি করে রাখা যাবে না। বানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে। ত্বকে যদি বেশি মরা চামড়া থাকে সেটাও ভালোভাবে তুলে দেবে।

এ সময়ে সপ্তাহে একদিন অবশ্যই একটা ফেইস মাস্ক ব্যবহার করুন। দুই চা-চামচ মুলতানি মাটি, দুই ফোটা গ্লিসারিন, এক চামচ শসার রস, এক চামচ গুঁড়াদুধ— গোলাপ জল দিয়ে মিশিয়ে নিন।

এই প্যাক মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিটি রাখুন। তারপর ভেজা হাতে মালিশ করে ধুয়ে ফেলুন। এই মাস্ক খুব তাড়াতাড়ি ত্বক পুর্নগঠনে সাহায্য করবে। ত্বক করবে টানটান।

হাতের যত্ন

এক বাটি উষ্ণ গরম পানিতে এক চামচ লবণ, এক চামচ শ্যাম্পু, লেবু চাক চাক করে পানিতে মিশিয়ে, এই পানিতে হাত ডুবিয়ে দশ মিনিট রাখুন।

টিভি দেখতে দেখতেও এই কাজ করতে পারেন।

দশ মিনিট পর নরম ব্রাশ দিয়ে ভালো করে ঘষে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন। এখন মুখের জন্য যে মাস্ক তৈরি করার পদ্ধতি বলা হয়েছে সেটার সঙ্গে এক চামচ লবণ মিশিয়ে হাতে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষ করুন। তারপর মালিশ করে ধুয়ে ফেলুন।

ভালোভাবে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। ব্যস হয়ে গেল হাতের যত্ন। সপ্তাহে একদিন এভাবেই যত্ন নিন। মাসে একবার অবশ্যই প্রফেশনাল ম্যানিকিওর করান। তাহলেই আপনার হাত থাকবে সুন্দর।

পায়ের যত্ন

মাসে দুবার প্যাডিকিওর করান। প্যাডিকিওর বিভিন্ন ধরনের হয়। সমস্যা থাকলে অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নিন।

বাড়িতে হাতের যত্নের মতোই পায়ের যত্ন নিন। প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে পা ভালোভাবে পরিষ্কার করে ভ্যাজলিন লাগান। পাঁচ মিনিট পর ভেজা রুমাল দিয়ে পা মুছে ফেলুন। এতেই আপনার পা থাকবে সবসময় সুন্দর।

শুধু উৎসবের কথা ভেবে নয়, সারাবছর এভাবেই যত্ন নিন নিজের। এতে মুখের ত্বকের পাশাপাশি হাত পাও সুন্দর থাকবে।

নখের যত্ন

আবহাওয়া, ময়লা ইত্যাদি কারণে নষ্ট হয়ে যায় নখের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। তবে একটু যত্ন নিলেই এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

আগে সংগ্রহ করতে হবে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস। যেমন— নেইল কাটার, নেইল ফাইল, নেইল হার্ডনার, অলিভ অয়েল, ব্রাশ, হ্যান্ডক্রিম, বাফার, সল্ট, স্যাভলন, লেবু ও হালকা গরম পানি।

নখের যত্ন নিতে প্রথমে একটি পাত্রে উষ্ণ পানি নিয়ে তাতে শ্যাম্পু, লেবু, লবণ, স্যাভলন মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাত ও পায়ের নখ ভিজিয়ে রাখতে হবে।

এরপর নখগুলো ব্রাশ দিয়ে ভালো করে ঘষে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ভালোভাবে মুছতে হবে। এখন নেইল কাটার দিয়ে নখের অতিরিক্ত অংশ কেটে, নেইল ফাইল দিয়ে নখ ঘষে পছন্দ মতো আকার দিন। এভাবে নখের পরিচর্যা করলে নখ শক্ত হয় এবং সহজে ভাঙেও না।

প্রয়োজনীয় টিপস:

নখ ফাইল করা হয়ে গেলে আবার পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে নিন। এবার বাফার দিয়ে নখের ওপরে লেগে থাকা ময়লা ঘষে পরিষ্কার করুন। এতে হলদে ভাব দূর হবে এবং উজ্জ্বলতা বাড়বে।

যাদের নখের হলদেভাব বেশি তারা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভ্যাজলিন লাগিয়ে ঘুমাতে পারেন। এতে হলদেভাব কেটে যাবে। শেষে ভালো কোনো ময়েশ্চারাইজার লোশন দিয়ে পাঁচ মিনিট মালিশ করে নিন।

নখ ভাঙার সমস্যা থাকলে প্রতি সপ্তাহে একবার অলিভ অয়েল গরম করে নখ ও আঙুল মালিশ করতে পারেন। এছাড়া নখ ভাঙা থেকে রেহাই পেতে নেইল হার্ডনার ব্যবহার করুন। এটি নেইল পলিশের মতো বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।

শুধু বাইরের যত্ন নয়, ভেতর থেকে যত্ন নিতে ভিটামিন বি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রনযুক্ত খাবার খান। কারণ পুষ্টির অভাবেও নখ ভেঙে যায়।সবজি কাটলে নখে কালো দাগ পড়ে। একটা লেবু কেটে ঘষলেই তা নিমিশে দূর হয়ে যায়।

Share This Post

Post Comment