সৌন্দর্যচর্চায় বেকিং সোডার ব্যাবহার ?

সৌন্দর্যচর্চায় বেকিং সোডার ব্যাবহার ?

সৌন্দর্যচর্চায় বেকিং সোডার ব্যাবহার ?

 

নানান ধরনের খাবার বানাতে রান্নায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে বেকিং সোডা। তবে রূপচর্চায় ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সোডার আছে বেশ কিছু গোপন গুণ। রূপচর্চা বিষয়ক একটি সাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সোডার এমনই কিছু গুণের বিষয় উল্লেখ করা হয়।

সৌন্দর্যচর্চায় বেকিং সোডার ব্যাবহার-

ব্রণের সমস্যা কমাতে

সামান্য পানিতে খানিকটা সোডা গুলিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্রণের উপর লাগিয়ে রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। দুতিন দিনেই ব্রণের সমস্যা কমে আসবে।

দাঁতের হলদে ভাব দূর

নিয়মিত দাঁত মাজার পরও নানান কারণে দাঁতে হলদেভাব হয়। এই দাগ দূর করতে সাধারণত যে টুথপেস্ট ব্যবহার করা হয় তার সঙ্গে কিছুটা বেকিং সোডা মিশিয়ে দাঁত মাজা যেতে পারে। ব্রাশে পেস্ট নিয়ে উপরে খানিকটা সোডা ছিটিয়ে সপ্তাহে একবার সাধারণভাবে দাঁত মাজলেই হলদেভাব কমে আসবে। তবে এটি প্রতিদিন ব্যবহার করা ঠিক নয়, কারণ এতে দাঁতের এনামেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে

মুখে দুর্গন্ধ নিয়ে মানুষের সামনে বিপাকে পড়তে হচ্ছে! বাজারে পাওয়া মাউথ ফ্রেশনারের মতোই কাজ করবে বেকিং সোডা। এক গ্লাস পানিতে এক চা-চামচ বেকিং সোডা মিলিয়ে মুখ কুলিকুচি করতে হবে। এটি মুখে এবং গলায় দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করতে সাহায্য করবে।

ত্বক কোমল করতে

বেশি সময় পানি নিয়ে কাজ করলে বা অন্য কোনো অনেক কারণে হাত এবং পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে পানি বা সাবানের সঙ্গে খানিকটা বেকিং সোডা মিশিয়ে হাত এবং পায়ের ত্বকে মালিশ করা যেতে পারে। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে ত্বক আবারও নমনীয় হয়ে উঠবে।

চুল পরিষ্কার করতে সোডা

শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারে সাধারণত কেমিকেল থাকেই। যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে চুল ও মাথার ত্বক ক্ষতি করতে পারে। এর বদলে চুল পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা যায় সোডা। সোডার পিএইচ-এর পরিমাণ অনেক বেশি। তাই মাথার ত্বকে লাগিয়ে পানি দিয়ে কিছুক্ষণ মালিশ করলে চুল পরিষ্কার হয়ে যাবে। এটি মাসে একবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

মেইকআপ ব্রাশ পরিষ্কারে সোডা

মেইকআপে ব্যবহৃত ব্রাশ বা স্পঞ্জ সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে ত্বকে নানান ধরনের সমস্যা হতে পারে। তাই ব্রাশ ও স্পঞ্জ সঠিকভাবে পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করতে পানির সঙ্গে কিছুটা সোডা মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। সোডা মিশ্রিত পানিতে ব্রাশ ভিজিয়ে রেখে তা ভালোমতো পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর সেটি ব্যবহার ও সংরক্ষণের আগে অবশ্যই ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

নখ পরিষ্কার

খানিকটা পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করতে হবে। ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করার সময় এই পেস্ট নিয়ে নখ ও পুরো হাত-পায়ে ভালোমতো লাগিয়ে মালিশ করতে হবে। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সোডা নখ চকচকে করে এবং নখের পাশের চামড়া বা কিউটিকলস সুস্থ রাখে।

ত্বক পরিষ্কার করতে

প্রতিদিন মুখ ধুতে ব্যবহৃত ফেইস ওয়াশের সঙ্গে খানিকটা সোডা মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার হবে গভীর থেকে। জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী এমা স্টোন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি ত্বক এক্সফলিয়েটের জন্য সোডা ব্যবহার করে থাকেন।

পায়ের গোড়ালি নরম করতে

এক টেবিল চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে এক টেবিল চামচ লেবুর রস ও সামান্য পানি একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে পায়ের গোড়ালিতে লাগান। এবার একটি নরম ব্রাশ দিয়ে ভালো করে ঘষুন। এতে পায়ের ফাটা দাগ দূর হবে এবং পা হবে মসৃণ ও সুন্দর।

চুলের রুক্ষতা দূর করতে

এক চা চামচ বেকিং সোডা শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়ে চুলে ও মাথার তালুতে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলের রুক্ষতা দূর করার পাশাপাশি চুলকে নরম ও ঝলমলে করে।

শুষ্ক শ্যাম্পুর কাজ করে

যদি শ্যাম্পু ছাড়া চুলের তেল দূর করতে চান, তাহলে বেকিং সোডা ব্যবহার করতে পারেন। এক টেবিল চামচ বেকিং সোডার সঙ্গে এক চা চামচ ল্যাভেন্ডার অয়েল ও আধা চা চামচ গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে চুলে লাগান। এবার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন। দেখবেন, খুব সহজেই চুলের তেলতেলে ভাব দূর হবে।

ত্বকের পোড়া দাগ দূর করতে

এক গ্লাস পানির মধ্যে দুই টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে তুলা দিয়ে মুখে ও হাত-পায়ে লাগান। এতে রোদের পোড়া ভাব দূর হবে এবং ত্বক আরো উজ্জ্বল হবে

Share This Post

Post Comment